
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ওষখাইনীরি নূরীয়া বিষু দরবার শরীফের প্রাণপুরুষ সুফি সাধক হযরত খাজা শাহনূর দরবেশ মাওলা (র.)-এর ১৫তম উরস শরীফ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
গত ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ উরস শরীফে বিভিন্ন দরবারের আউলাদ, ওলামায়ে কেরাম, লেখক, গবেষক, গুণীজন, ভক্ত-মুরিদানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উরস শরীফের সমাপনী দিনে দরবার শরীফের সম্মানিত সাজ্জাদানশীন মাওলানা মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন নূরী আল-কুরাইশী (মা.জি.আ.) সভাপতিত্ব ও সদারত করেন।
এ সময় তিনি বলেন, “আল্লাহ ও রাসুল (দ.)-এর সত্যিকারের প্রতিনিধি হলেন আউলিয়ায়ে কেরাম। আত্মঅহংকার, হিংসা, লোভ-লালসা ও কুপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত থাকতে আউলিয়ায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন। জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির অনন্য স্থান হলো আউলিয়ায়ে কেরামের দরবার।”
উরস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ওলামায়ে কেরাম পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে হযরত খাজা শাহনূর দরবেশ মাওলা (র.)-এর জীবনাদর্শ, আধ্যাত্মিক দর্শন, রচনাকর্ম এবং দ্বীন ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
দরবার সূত্রে জানা যায়, হযরত খাজা শাহনূর দরবেশ মাওলা (র.) খলিফাতুর রাসুল (দ.) সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর বংশধর। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, জীবনাদর্শ অনুসরণ এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষার চর্চার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর এ উরস শরীফের আয়োজন করা হয়। এতে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ঘটে।
তিন দিনব্যাপী উরস শরীফের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল যথাসময়ে নামাজ আদায়, খতমে কুরআন, মাজার জিয়ারত, তাবারুকাত জিয়ারত, হযরত খাজা শাহনূর দরবেশ মাওলা (র.) ও তাঁর পূর্বপুরুষদের রচিত গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন, দাওয়াত খতম, জিকির-সেমা, নেয়াজ বিতরণ ও আখেরি মোনাজাত।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হযরত খাজা শাহনূর দরবেশ মাওলা (র.)-এর ১৫তম উরস শরীফের সমাপ্তি ঘটে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











