চিটাগাং কো-অপারেটিভ ও হাউজিং সোসাইটির কার্যনির্বাহী পরিষদ নিয়ে বিরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ ও হাউজিং সোসাইটির নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য এস এম জমির উদ্দিনের সদস্যপদ বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা ও উপ-আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত অন্যান্য সভায় অংশগ্রহণে বাধা না দেওয়া এবং সোসাইটির কার্যালয়ে প্রবেশসহ সদস্য হিসেবে তাঁর কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সোসাইটির কার্যক্রম ও উপ-আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিকার চেয়ে এস এম জমির উদ্দিন ৫ম সিনিয়র সিভিল জজ আবুল হায়াত মুহাম্মদ তারেক আজমের আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত তাঁর সদস্যপদ বহাল রাখার পাশাপাশি তাঁর স্থলে অন্য কাউকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট সভা ও কার্যক্রম পরিচালনা না করার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মামলার আরজিতে এস এম জমির উদ্দিন অভিযোগ করেন, সোসাইটির সভাপতি, ব্যবস্থাপক ও তাঁদের কয়েকজন অনুসারীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁকে কার্যনির্বাহী পরিষদ থেকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়। এর অংশ হিসেবে মো. জোবায়ের নামে সোসাইটির এক সদস্যকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে আবেদন করানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরজিতে আরও বলা হয়, ওই আবেদনের ভিত্তিতে সোসাইটির সভাপতি একক সিদ্ধান্তে ব্যাংকঋণ-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে এস এম জমির উদ্দিনকে নোটিশ দেন। একই বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাদের গ্রাহকের হিসাব ও ব্যক্তিগত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এস এম জমির উদ্দিনের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সভায় অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ তুলে এবং একটি সভার ছবি উপস্থাপন করে তাঁকে সদস্যপদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর তাঁকে সোসাইটির কার্যালয় ত্যাগ করতে বলা হয়। এ সময় তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ৪ অক্টোবর পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এস এম জমির উদ্দিন। তাঁর দাবি, সোসাইটির উপ-আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ না করে স্বেচ্ছাচারীভাবে তাঁর সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং নিজের সদস্যপদ ও অধিকার রক্ষায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এস এম জমির উদ্দিনের সদস্যপদ বহাল থাকবে এবং তাঁকে সোসাইটির সভা ও সদস্য হিসেবে নির্ধারিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া যাবে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক 










