০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে সিলিকা বালু পাচারের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে সোনাই নদী থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, গত শুক্রবার (২০ মার্চ) চৌমুহনী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় সাংবাদিক হামিদুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পোস্টে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন, চৌমুহনী এলাকার সোনাই নদী থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উচ্চমানের সিলিকা বালু অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার করছে। তিনি দাবি করেন, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পারভেজ হোসেন চৌধুরী এবং চৌমুহনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের জালাল। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। ফলে অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত পারভেজ হোসেন চৌধুরী ও আবু নাসের জালাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে পারভেজ হোসেন চৌধুরী একজন বৈধ বালুমহালের ইজারাদার বলেও জানা গেছে।
অভিযোগকারী হামিদুর রহমান বলেন, “আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি এবং করে যাব। দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন এলে তার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। একজন সাংবাদিক হিসেবে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি।” এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন কাছেদ বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে যে কেউ সমালোচনা করতে পারে। তবে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ফেসবুকে ওঠা অভিযোগটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে সিলিকা বালু পাচারের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

সময় : ০৭:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে সোনাই নদী থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, গত শুক্রবার (২০ মার্চ) চৌমুহনী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় সাংবাদিক হামিদুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পোস্টে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন, চৌমুহনী এলাকার সোনাই নদী থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উচ্চমানের সিলিকা বালু অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার করছে। তিনি দাবি করেন, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পারভেজ হোসেন চৌধুরী এবং চৌমুহনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের জালাল। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। ফলে অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত পারভেজ হোসেন চৌধুরী ও আবু নাসের জালাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে পারভেজ হোসেন চৌধুরী একজন বৈধ বালুমহালের ইজারাদার বলেও জানা গেছে।
অভিযোগকারী হামিদুর রহমান বলেন, “আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি এবং করে যাব। দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন এলে তার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। একজন সাংবাদিক হিসেবে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি।” এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন কাছেদ বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে যে কেউ সমালোচনা করতে পারে। তবে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ফেসবুকে ওঠা অভিযোগটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।