
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কুয়েতে শ্রমিক ভিসা প্রসেসিংয়ে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় ও গ্রুপ টিকিট মজুদ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রির অভিযোগে আটাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে সরকারি সংস্থাটি। প্রতিযোগিতা কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশে জানানো হয়েছে, কুয়েতে কাজের ভিসা প্রসেসিংয়ে বাজার প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আগামী বৃহস্পতিবার তাকে কমিশনে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দাখিল না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রিক্রুটিং এজেন্সি সূত্র জানায়, কুয়েতে শ্রমিক ভিসার সরকারি প্রসেসিং ফি মাত্র ৫ হাজার ৩০০ টাকা। অথচ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই ভিসার জন্য প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে আসছে। গত আট বছরে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর কাছ থেকে এভাবে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ষষ্ঠ বৃহত্তম শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সের দিক থেকে পঞ্চম বৃহত্তম উৎস। দেশে প্রায় ২ হাজার ৯শ’ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি এজেন্সি সিন্ডিকেট গড়ে কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং নিয়ন্ত্রণ করছে। একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট ভিসা বাজারে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ফলে সাধারণ এজেন্সিগুলো ভিসা প্রসেসিং থেকে কার্যত বঞ্চিত হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী হচ্ছেন প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ কর্মীরা। আব্দুস সালাম আরেফ মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেড ও এয়ার স্পিড প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্টে তার নেতৃত্বাধীন আটাবের কমিটি বিলুপ্ত করে সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আটাবের শীর্ষ পদে থেকে আরেফ কুয়েত ভিসা প্রসেসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন এবং নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় শুরু করেন। প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্র জানায়, একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি উড়োজাহাজের গ্রুপ টিকিট মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমকে আহ্বায়ক করে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। এদিকে সাধারণ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দাবি, বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আরেফের মালিকানাধীন মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিলসহ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











