০২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চলতি সপ্তাহেই আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’

বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপটির নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘ডানা’। তখন বেশ জোরালো ভাবেই স্থলভাগে আঘাত হানার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। আঘাত হানতে পারে ২৪ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কোন অঞ্চলে আঘাত হানবে তা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি না আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে তা নিশ্চিত। তবে কোথায় আঘাত হানতে পারে তা এখনই বলা যাবে না। এতে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথও পরিবর্তন হতে পারে।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা বাংলাদেশ আবহাওয়া অবজারভেশন টিম (বিডাব্লিউওটি) এর মতে, ২৪-২৫ অক্টোবর এর মধ্যে একটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড় থেকে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ভারতের ওডিশা থেকে দক্ষিণ বাংলাদেশ (বরিশাল) উপকূলের মধ্যে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এর সর্বোচ্চ মাত্রা ক্যাটাগরি-১ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে প্রায় ৮৫-১৪৫ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এর প্রভাবে। তবে সংস্থাটি বলছে, যদি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ব দিকের সাবট্রপিকাল রিজ (এসটিআর) এর প্রভাব দুর্বল হয়ে যায় তবে এটি বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানতে পারে। এতে এর শক্তিমত্তা কিছুটা বেশি হওয়ার ঝুকি থাকবে। বিডাব্লিউওটি’র মতে, বাংলাদেশ ও নিকটতম মিয়ানমার উপকূলে এর আঘাত হানার সম্ভাব্যতা প্রায় ১%, ওডিশা উপকূলে ৩০%, পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাতক্ষীরা উপকূলে ৫০%, খুলনা-বরিশাল উপকূলের জন্য ১৫% এবং অন্য কোথাও ৪%। যদি এটি কেবলই ধারণা। বেশ কিছু কারণে এটি পরিবর্তনও হতে পারে।

সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার সকালে লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হবে, তখন এর সম্ভাব্য গতিপথ এবং আঘাতের স্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে জানান বজলুর রশীদ। তবে বিডাব্লিউওটি’র চেয়ারম্যান পারভেজ আহমেদ পলাশ চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, এটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড় (৮৫ কিমি বা তার কম) থেকে প্রায় হারিকেনের শক্তি সম্পন্ন (১১৮কিমি বা তার বেশি) তীব্র ঘূর্ণিঝড় রুপে ভারতের দীঘা থেকে বাংলাদেশের বরিশালের মধ্যবর্তী যেকোনো এলাকায় আঘাত হানতে পারে আগামী ২৪ তারিখ সন্ধ্যা থেকে ২৫ তারিখ সকালের মধ্যে। তবে এর শক্তিমত্তা নিম্নচাপ তৈরীর পরেই স্পষ্ট বলা যাবে বলেও জানান পারভেজ আহমেদ। বিডাব্লিউওটি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আসুক বা না আসুক, এর প্রভাবে দেশের একাংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং কোথাও কোথাও প্রবল ভারী বর্ষণ হতে পারে। এবং সারাদেশেই মেঘলা আবহাওয়া ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।  এছাড়া ঘূর্ণিঝড় সম্ভাব্য এলাকায় আঘাত করলে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের নিকটবর্তী এলাকায় ৫ থেকে ৮ ফুট উচ্চ জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে। পাকা ফসলসমূহ ২২ তারিখ বা ২৩ তারিখের মধ্যে সংগ্রহ এবং ভ্রমণ পিপাসুদের ২৩ তারিখের পর সমূদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছে বিডাব্লিউওটি।

চলতি সপ্তাহেই আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’

সময় : ০৬:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪

বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপটির নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘ডানা’। তখন বেশ জোরালো ভাবেই স্থলভাগে আঘাত হানার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। আঘাত হানতে পারে ২৪ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কোন অঞ্চলে আঘাত হানবে তা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি না আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে তা নিশ্চিত। তবে কোথায় আঘাত হানতে পারে তা এখনই বলা যাবে না। এতে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথও পরিবর্তন হতে পারে।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা বাংলাদেশ আবহাওয়া অবজারভেশন টিম (বিডাব্লিউওটি) এর মতে, ২৪-২৫ অক্টোবর এর মধ্যে একটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড় থেকে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ভারতের ওডিশা থেকে দক্ষিণ বাংলাদেশ (বরিশাল) উপকূলের মধ্যে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এর সর্বোচ্চ মাত্রা ক্যাটাগরি-১ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে প্রায় ৮৫-১৪৫ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এর প্রভাবে। তবে সংস্থাটি বলছে, যদি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ব দিকের সাবট্রপিকাল রিজ (এসটিআর) এর প্রভাব দুর্বল হয়ে যায় তবে এটি বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানতে পারে। এতে এর শক্তিমত্তা কিছুটা বেশি হওয়ার ঝুকি থাকবে। বিডাব্লিউওটি’র মতে, বাংলাদেশ ও নিকটতম মিয়ানমার উপকূলে এর আঘাত হানার সম্ভাব্যতা প্রায় ১%, ওডিশা উপকূলে ৩০%, পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাতক্ষীরা উপকূলে ৫০%, খুলনা-বরিশাল উপকূলের জন্য ১৫% এবং অন্য কোথাও ৪%। যদি এটি কেবলই ধারণা। বেশ কিছু কারণে এটি পরিবর্তনও হতে পারে।

সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার সকালে লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হবে, তখন এর সম্ভাব্য গতিপথ এবং আঘাতের স্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে জানান বজলুর রশীদ। তবে বিডাব্লিউওটি’র চেয়ারম্যান পারভেজ আহমেদ পলাশ চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, এটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড় (৮৫ কিমি বা তার কম) থেকে প্রায় হারিকেনের শক্তি সম্পন্ন (১১৮কিমি বা তার বেশি) তীব্র ঘূর্ণিঝড় রুপে ভারতের দীঘা থেকে বাংলাদেশের বরিশালের মধ্যবর্তী যেকোনো এলাকায় আঘাত হানতে পারে আগামী ২৪ তারিখ সন্ধ্যা থেকে ২৫ তারিখ সকালের মধ্যে। তবে এর শক্তিমত্তা নিম্নচাপ তৈরীর পরেই স্পষ্ট বলা যাবে বলেও জানান পারভেজ আহমেদ। বিডাব্লিউওটি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আসুক বা না আসুক, এর প্রভাবে দেশের একাংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং কোথাও কোথাও প্রবল ভারী বর্ষণ হতে পারে। এবং সারাদেশেই মেঘলা আবহাওয়া ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।  এছাড়া ঘূর্ণিঝড় সম্ভাব্য এলাকায় আঘাত করলে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের নিকটবর্তী এলাকায় ৫ থেকে ৮ ফুট উচ্চ জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে। পাকা ফসলসমূহ ২২ তারিখ বা ২৩ তারিখের মধ্যে সংগ্রহ এবং ভ্রমণ পিপাসুদের ২৩ তারিখের পর সমূদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছে বিডাব্লিউওটি।