নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এ সরকারি কোয়ার্টার দখল, ভাড়া বাণিজ্য এবং আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগে কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি কোয়ার্টার দখল ও ভাড়া বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত বিটিসিএল কলোনির একাধিক সরকারি কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে দখলে রেখে অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি, টেলিযোগাযোগ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব মোঃ খোরশেদ আলমের নিয়ন্ত্রণে এসব কোয়ার্টার রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী নিম্নোক্ত সরকারি বাসাগুলো তার দখলে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে—
বাসা নং: জি-১৭/৬
বাসা নং: জি-১৮/২১
বাসা নং: জি-১৮/২৩
বাসা নং: জি-১৮/২৪
বাসা নং: জি-২২/৪
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব বাসা বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিটিসিএল নীলক্ষেত অফিসে কর্মরত বিলোপযোগ্য কর্মচারী মোঃ আবু জাফর এসব কোয়ার্টার থেকে ভাড়া সংগ্রহ করে তা মোঃ খোরশেদ আলমের কাছে পৌঁছে দেন।তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আনুতোষিক পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ সংগ্রহ এদিকে নতুন করে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আনুতোষিক পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিটিসিএল নীলক্ষেত অফিসে কর্মরত বিলোপযোগ্য কর্মচারী মোঃ আবু জাফর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে আনুতোষিক পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই আশ্বাসে বিটিসিএলের সাবেক শ্রমিকনেতা মোঃ খোরশেদ আলমের মাধ্যমে একাধিক কর্মচারীর কাছ থেকে প্রায় ৮৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মচারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে আনুতোষিকের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। টাকা নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং এখন বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাদের। এক ভুক্তভোগী কর্মচারী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করে কষ্টার্জিত টাকা দিয়েছি। যদি প্রতিশ্রুতি পূরণ না হয়, তাহলে এটি স্পষ্ট প্রতারণা। আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।”
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
এর আগে বিটিসিএল কলোনির সরকারি কোয়ার্টার দখল ও ভাড়া বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একইভাবে আনুতোষিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে মোঃ আবু জাফর ও মোঃ খোরশেদ আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিটিসিএল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।সুশাসনের প্রশ্নে উদ্বেগ সরকারি সম্পত্তি দখল, ভাড়া বাণিজ্য এবং কর্মচারীদের আর্থিক অধিকার নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ভুক্তভোগী কর্মচারী ও এলাকাবাসীর দাবি, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নিশ্চিত করারও জোর দাবি উঠেছে।রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মত সংশ্লিষ্টদের।
সম্পাদকঃ এস এম মাহমুদুর রহমান
দৈনিক কর্ণফুলী সংবাদ