
আওয়ামী লীগের ঘরানার রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা বিপাশা ইয়াসমিনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন শিক্ষক সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ঐক্যজোটের সভাপতি সেলিম ভূঁইয়ার উদ্যোগে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং একই সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক সম্পাদিকার দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিপাশা ইয়াসমিন অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার সুপারিশে চাকরি লাভ করেন। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী ঘরানার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতেন। বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে একাধিক গান রচনা ও পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি আওয়ামী সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে গান করতে এবং নিজেকে প্রকাশ্যে ‘জুলাই আন্দোলন সমর্থিত’ হিসেবে তুলে ধরতে দেখা গেছে। একসময় বঙ্গবন্ধু ঐক্যজোট প্যানেলের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকার দায়িত্বে থাকা একজন নেত্রীকে বর্তমানে বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় পদে দেখা যাওয়ায় তার রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার আগে বিপাশা ইয়াসমিন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ঐক্যজোটের সভাপতি সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে টানা তিন দিনের একটি সাংগঠনিক সফরে কুষ্টিয়ায় অবস্থান করেন। সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পরপরই তাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠেছে—এই নিয়োগ কি সাংগঠনিক নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে, নাকি ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণেই এত দ্রুত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এই তথ্য সামনে আসার পর যে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে মামলার এক নম্বর আসামি, সেই মামলায় বিপাশা ইয়াসমিনের নাম ১৩৯ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এসব বিষয় একাধিকবার জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ঐক্যজোটের সভাপতি সেলিম ভূঁইয়াকে অবহিত করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এতে সংগঠনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও প্রশ্ন বাড়ছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন শিক্ষকের এভাবে বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন শিক্ষক রাজনীতিতে নৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। তাদের ভাষায়, পদ, প্রভাব বা সুযোগের জন্য আদর্শ বদলের প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ দাবি জানিয়েছে, এ ধরনের সুবিধাবাদী রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে আদর্শ ও নৈতিকতার প্রশ্নে আপস না করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











