০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংশোধন ছাড়া NEIR চালু হলে ভোক্তা ও ব্যবসা খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে —মোবাইল ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা

নিজস্ব রিপোর্টারঃ আরাফাত হোসাইন কাউসার, ঢাকা
কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া NEIR (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হলে দেশের মোবাইল ফোন বাজার ভয়াবহ একচেটিয়া ব্যবস্থার কবলে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মোবাইলফোন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বর্তমান কাঠামোতে NEIR চালু হলে সাধারণ গ্রাহক, শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব উদ্বেগের কথা জানান মোবাইলফোন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোনো সংশোধন ছাড়া NEIR কার্যকর হলে দেশের মোবাইল বাজার কার্যত মাত্র ৯টি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বিলুপ্ত হবে এবং একচেটিয়া ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে এসব কোম্পানি ইচ্ছেমতো মোবাইল ফোনের দাম বাড়াতে পারবে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিকল্প পণ্যের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, এর সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের ওপর। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত স্মার্টফোন কেনা কঠিন হয়ে উঠবে। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা ডিজিটাল শিক্ষা, অনলাইন ক্লাস ও নানা ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ। সংগঠনের দাবি, ২ কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির উপহার হিসেবে আনা মোবাইল ফোন NEIR নিবন্ধনের জটিলতায় অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘ ও সময়সাপেক্ষ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কারণে বহু পরিবারের ব্যবহৃত ফোন নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা প্রবাসী ও স্বজনদের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা আরও বলেন, গ্রামাঞ্চল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোন কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে। একচেটিয়া বাজার ব্যবস্থায় দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার বাইরে চলে যায়। এটি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্যবিরোধী। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, NEIR চালুর ফলে ফোন বিক্রি, বদল কিংবা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়বেন। সিম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মিল না থাকলে ফোন লেনদেন কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে, যা গ্রাহকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা না থাকলে ওই সীমিত সংখ্যক কোম্পানির নতুন প্রযুক্তি বা মডেল বাজারে আনার আগ্রহ কমে যাবে। তারা পুরনো মডেল সরবরাহ করেই দাম বাড়াতে থাকবে, ফলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা বলেন, ফোন হারালে পুলিশি সহায়তায় ট্র্যাকিং বা উদ্ধার কার্যক্রম কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। কারণ অপরাধীরা হারানো ফোনে সিম ব্যবহার করবে না। এতে জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং ভুক্তভোগীরা নতুন ফোন কিনতে বাধ্য হবেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, মোবাইল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২৫ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২০ লাখ মানুষ সরাসরি কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—জনস্বার্থ, বাজার প্রতিযোগিতা ও কর্মসংস্থান রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে NEIR সিস্টেম বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার।

সংশোধন ছাড়া NEIR চালু হলে ভোক্তা ও ব্যবসা খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে —মোবাইল ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা

সময় : ১১:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব রিপোর্টারঃ আরাফাত হোসাইন কাউসার, ঢাকা
কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া NEIR (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হলে দেশের মোবাইল ফোন বাজার ভয়াবহ একচেটিয়া ব্যবস্থার কবলে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মোবাইলফোন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বর্তমান কাঠামোতে NEIR চালু হলে সাধারণ গ্রাহক, শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব উদ্বেগের কথা জানান মোবাইলফোন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোনো সংশোধন ছাড়া NEIR কার্যকর হলে দেশের মোবাইল বাজার কার্যত মাত্র ৯টি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বিলুপ্ত হবে এবং একচেটিয়া ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে এসব কোম্পানি ইচ্ছেমতো মোবাইল ফোনের দাম বাড়াতে পারবে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিকল্প পণ্যের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, এর সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের ওপর। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত স্মার্টফোন কেনা কঠিন হয়ে উঠবে। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা ডিজিটাল শিক্ষা, অনলাইন ক্লাস ও নানা ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ। সংগঠনের দাবি, ২ কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির উপহার হিসেবে আনা মোবাইল ফোন NEIR নিবন্ধনের জটিলতায় অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘ ও সময়সাপেক্ষ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কারণে বহু পরিবারের ব্যবহৃত ফোন নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা প্রবাসী ও স্বজনদের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা আরও বলেন, গ্রামাঞ্চল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোন কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে। একচেটিয়া বাজার ব্যবস্থায় দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার বাইরে চলে যায়। এটি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্যবিরোধী। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, NEIR চালুর ফলে ফোন বিক্রি, বদল কিংবা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়বেন। সিম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মিল না থাকলে ফোন লেনদেন কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে, যা গ্রাহকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা না থাকলে ওই সীমিত সংখ্যক কোম্পানির নতুন প্রযুক্তি বা মডেল বাজারে আনার আগ্রহ কমে যাবে। তারা পুরনো মডেল সরবরাহ করেই দাম বাড়াতে থাকবে, ফলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা বলেন, ফোন হারালে পুলিশি সহায়তায় ট্র্যাকিং বা উদ্ধার কার্যক্রম কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। কারণ অপরাধীরা হারানো ফোনে সিম ব্যবহার করবে না। এতে জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং ভুক্তভোগীরা নতুন ফোন কিনতে বাধ্য হবেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, মোবাইল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২৫ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২০ লাখ মানুষ সরাসরি কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—জনস্বার্থ, বাজার প্রতিযোগিতা ও কর্মসংস্থান রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে NEIR সিস্টেম বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার।