বিশেষ প্রতিনিধিঃ রাজধানীর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা, ভাড়া না দেওয়া এবং বাড়ি দখলের পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী-স্ত্রী পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, শেল্টার গ্লোবাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কথিত প্রিন্সিপাল আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী তার স্ত্রী শামীমা ইয়াসমিন উত্তরার সেক্টর–৬ এর ইশা খাঁ এভিনিউয়ের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা বললেও ভবন মালিকের অনুমতি ছাড়াই সেখানে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। ভবন মালিক মাহবুব আলম (বাসা নং–২৯, রোড–ইশা খাঁ এভিনিউ, সেক্টর–৬) সাংবাদিকদের জানান, চুক্তি অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কথা থাকলেও ভাড়াটিয়ারা অনুমতি ছাড়া দুইটি প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, গত এক বছর ধরে কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি এবং বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে। ভাড়া চাইতে গেলে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে লাঠিসোঁটা নিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং বাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভবন মালিক। অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মামুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে ধর্ষণ মামলার অভিযোগ থাকায় তিনি চাকরিচ্যুত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তিনি গত ১৫ বছর ধরে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে অনুমোদনহীনভাবে স্কুল পরিচালনা করে আসছেন এবং এর আগেও একাধিক ভবন মালিক তাকে বের করে দিয়েছেন। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বর্তমানে ওই ভবনে স্কুল পরিচালনার পাশাপাশি আবাসিকভাবে বসবাস করা হচ্ছে এবং সেখানে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে। ভবনের দারোয়ানসহ সংশ্লিষ্টদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা শেল্টার গ্লোবাল স্কুলের প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের গালমন্দ ও রাজনৈতিক পরিচয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী শামীমা ইয়াসমিন নিজেকে উত্তরা রাজউক কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন। তবে রাজউক কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সেখানে একজন সাধারণ ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত। ভবন মালিকের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার স্ত্রী ভাড়া না দিয়ে জোরপূর্বক ভবন দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। ভয়ংকর তথ্য নিয়ে পরবর্তী পর্বে আরও বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদকঃ এস এম মাহমুদুর রহমান
দৈনিক কর্ণফুলী সংবাদ