
অনুসন্ধানী প্রতিবেদকঃ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পতাকা হাতে ধরে জনসেবার শপথ নেওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) মো. আবু সুফিয়ান আজ নিজেই পরিণত হয়েছেন ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির প্রতীকে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে টেন্ডার সিন্ডিকেট, বদলি বাণিজ্য এবং ঘুষের রাজনীতি করে গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার অজানা সাম্রাজ্য। অথচ এতসব অভিযোগের পরও তিনি প্রশাসনিকভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, যেন তার বিরুদ্ধে কোনো আইনই কার্যকর নয়। সূত্র জানায়, ২০২২–২৩ এবং ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দায়িত্বে থাকাকালে আবু সুফিয়ান ইচ্ছাকৃতভাবে এপিপি’র (Annual Procurement Plan) অধিকাংশ কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করেন, যাতে নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া যায়। এর ফলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ লুট হলেও প্রশাসন নীরব দর্শক হিসেবে সবকিছু সহ্য করছে।
সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তেজগাঁও সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ২৮৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের জামানতের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা ফেরত দেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফ্ল্যাটগুলোর ইলেকট্রিক ফিটিংস নিম্নমানের, যা মাত্র দুই মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে পড়েছে। সিকিউরিটি লাইট ও গার্ডেন লাইট সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। সেখানে বসবাসরত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, “অতিরিক্ত বিল তোলার জন্য নিম্নমানের সরঞ্জাম লাগানো হয়েছিল। পরে একই কাজ আবার করে নতুন করে বিল উত্তোলন করা হয়।”
তেজগাঁও ভূমি ভবনের বৈদ্যুতিক কাজেও একই ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় গাফিলতি, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর স্পষ্ট ছাপ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঠিকাদার নির্বাচনে স্বচ্ছতা ছিল না—বরং সবকিছুই পরিচালিত হয়েছে ‘নিজস্ব সিন্ডিকেটের স্বার্থে’।
এখানেই শেষ নয়। বদলি বাণিজ্যেও নাকি তার সমান প্রভাব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তাদের বদলির বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করা হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ার কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”
সব অভিযোগের মাঝেও আবু সুফিয়ান এখনো বহাল তবিয়তে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), পি অ্যান্ড ডি বিভাগ, গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্ত চলছে বলে জানা গেলেও এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে তিনি আগের মতোই দাপটের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে এখন একটাই প্রশ্ন—দীর্ঘদিন ধরে চলা এই টেন্ডার বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ও বদলি দুর্নীতির জন্য আবু সুফিয়ান কখনও জবাবদিহির মুখোমুখি হবেন কি না?
রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা যদি এখনই বিচারের আওতায় না আসে, তবে জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো একে একে পরিণত হবে লুটপাটের মহোৎসবে।
গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ মহলে এখন শুধুই গুঞ্জন—
“আবু সুফিয়ান নামের এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা আসলে কার ছত্রছায়ায় অদম্য?
নিজস্ব প্রতিবেদক 











