শহীন আকতার, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের জিরি সুবেদার বাড়ি এলাকার গৃহবধূ সাবরিনা সুলতানা আঁখি (২৫) স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। গত ১৯ অক্টোবর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, পটিয়ায় দায়ের করা এ মামলায় মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন স্বামী মো. শহিদুল ইসলাম বাপ্পি (২৫), শ্বশুর মনিরুল ইসলাম (৫৫) এবং শাশুড়ি নার্গিস আক্তার (৪০)। মামলার এজাহারে বাদী জানান, প্রায় দুই বছর আগে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে হয় শহিদুল ইসলাম বাপ্পির সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন অজুহাতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বিয়ের সময় তার পরিবার স্বর্ণালংকার, নগদ ৫ লাখ টাকা এবং প্রায় আড়াই লাখ টাকার আসবাবপত্র ও উপহার সামগ্রী দিয়েছিল। তবুও স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের দাবিতে তাকে প্রায়ই মারধর করত। বাদীর অভিযোগ, বাপ্পি যৌতুকের দাবিতে আরও টাকা দাবি করত এবং অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও নির্যাতন করত। একপর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে তার বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শহিদুল ইসলাম বাপ্পি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিল এবং ওইসব নারীদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও স্ত্রীর কাছে টাকা চাইত। এতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।মামলাটি ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইন-এর ৩ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।বাদী বর্তমানে তার পিতার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। উল্লেখ্য, মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী মো. শহিদুল ইসলাম বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইন-এর ৩ ধারায় জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
সম্পাদকঃ এস এম মাহমুদুর রহমান
দৈনিক কর্ণফুলী সংবাদ