নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম প্রাণ, ঢোলের মায়াবী আওয়াজে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে গেছেন এক মহারথী শিল্পী— বিনয়বাঁশী জলদাস। যাঁর বাজনার তাল-লয়ে জেগে উঠত গ্রামবাংলার মঞ্চ, পূজামণ্ডপ কিংবা সাংস্কৃতিক আসর। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই মহান ঢোলবাদকের ১১৪তম জন্মদিবস এবারও পালিত হলো তাঁর জন্মভূমি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডীতে, শিল্পীর সমাধি প্রাঙ্গণে।
বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে তাঁর ভাস্কর্যে পুষ্পার্পণ, কেক কাটা এবং আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয়। শিল্পীর পরিবার, সহশিল্পী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা ভিড় জমান তাঁর স্মৃতির টানে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ লুৎফুর রহমান। এছাড়া বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অধীর বড়ুয়াসহ স্থানীয় সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।
বিনয়বাঁশীর ছেলে, আন্তর্জাতিক ঢোলবাদক শিল্পী বাবুল জলদাস স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন—
“আমার বাবা শুধু ঢোল বাজাননি, তিনি ঢোলকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর বাজনার মধ্যে ছিল আত্মার কথা, মাটির গন্ধ।”
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আজকের সমাজে যখন সংস্কৃতি বিমুখতা, কুসংস্কার আর মাদকের বিষ ছড়িয়ে পড়ছে, তখন বিনয়বাঁশীর মতো শিল্পীর চর্চা আরও প্রয়োজন। তাঁরা মত দেন, “সমাজকে আলোকিত করতে হলে বিনয়বাঁশীর আলোর দিশা আমাদের ধরে রাখতে হবে।”
১৯১১ সালে জন্ম নেয়া বিনয়বাঁশী জলদাস ছিলেন ঢোলবাদনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর বাজনার নৈপুণ্যে মোহিত হয়েছিল উপমহাদেশ। দীর্ঘ শিল্পসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। কিন্তু তার পরের বছরই, ২০০২ সালের ৫ এপ্রিল, তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।
তাঁর জন্মভূমি বোয়ালখালী শুধু বিনয়বাঁশীকেই নয়, রমেশ শীল ও শেফালী ঘোষের মতো গুণী শিল্পীকেও উপহার দিয়েছে। ফলে এ জনপদকে আজও বলা হয় লোকসংস্কৃতির উর্বরভূমি।
শিল্পীর ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকে বলছিলেন—
“বিনয়বাঁশী শুধু একজন ঢোলবাদক নন, তিনি ছিলেন সংস্কৃতির সৈনিক। তাঁর বাজনা আজও আমাদের কানে বাজে, মনকে নাড়া দেয়। আগামী প্রজন্মকে তাঁর শিল্পের উত্তরাধিকার বহন করতে হবে।
সম্পাদকঃ এস এম মাহমুদুর রহমান
দৈনিক কর্ণফুলী সংবাদ