
আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী, তরুণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, একটি রাষ্ট্র গঠনের দিকে যাত্রা মানেই গণতান্ত্রিক রিপাবলিক নির্মাণের প্রত্যয়। এই পথ ধরেই আসে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো, যেখানে এক্সিকিউটিভ, লেজিসলেটিভ এবং জুডিশিয়ারি—এই তিনটি শক্তি ভারসাম্যে থাকে। ক্ষমতার চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স যতটা কার্যকর, রাষ্ট্র ততটাই আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক হয়। আর এই ভারসাম্য নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র পথ হলো—জনগণের রায়। বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেখা যায়, এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ সাংবিধানিকভাবে অনেক ক্ষমতা পেলেও, সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে বিচার বিভাগ। জরুরি সময়ে লেজিসলেটিভ বডির কার্যকারিতা অনেকাংশে অনুপস্থিত থাকে, অথচ রাষ্ট্র তখনও সচল থাকে কেবলমাত্র বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত নির্ভরতায়। এই বাস্তবতাকে ঘিরেই উঠে আসে এক মৌলিক প্রশ্ন—কে সার্বভৌম? জনগণ, নাকি বিচারকমণ্ডলী? যদি জনগণই হতো প্রকৃত সার্বভৌম, তবে বিচার বিভাগ জনগণের ইচ্ছার অধীন থাকতো। বাস্তবে দেখা যায়, জুডিশিয়ারি এমন এমন রায় দিতে পারে, যা কার্যত একটি সরকার বাতিল করে দিতে পারে, অথচ তার বিরুদ্ধে জনগণের কোনো কার্যকর প্রতিরোধ কাঠামো নেই। এই পয়েন্টটি শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাই বিচার বিভাগের কিছু এখতিয়ার সংসদের হাতে তুলে দিয়ে একটি ‘নিরাপদ ফ্যাসিবাদী কাঠামো’ গঠনের চেষ্টা করেছিলেন। কারণ, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে যা খুশি তাই করার ক্ষমতা রাখে, এবং এই ক্ষমতার কোনো জবাবদিহিতা জনগণের প্রতি থাকে না। এই অবস্থাতেই দেখা যায়, বিচার বিভাগ এমন রুল জারি করতে পারে, যাতে বলা হয়—”আওয়ামী লীগই জনগণ, বাকিরা নয়।” কারণ সংবিধানে বিচার বিভাগের এমন এখতিয়ার রয়েছে, যার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা মানেই আদালত অবমাননা। আর সেই অপরাধে শাস্তি এড়ানো সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা থেকেই বোঝা যায়, কেন গণঅভ্যুত্থানের পরপরই ইন্টারিম গভর্নমেন্টকে হাইকোর্টে ‘সেইফ’ করা হয়েছিল—মোবিলাইজড জনতার মাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত, আলোচনার কেন্দ্রে আসে একটি প্রশ্ন—বৈধতা দেবে কে? উত্তর একটাই: জনতাই বৈধতা। এই সত্য বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক জানে। এখন সময় এসেছে এই বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার, অথবা নতুন সংবিধানে জনগণকে কীভাবে প্রকৃত সার্বভৌম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তার রূপরেখা নির্ধারণের।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











