
এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম, উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত বিএসআরএম স্টিল কারখানায় সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও শ্রমিকদের আহত করার দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি তাজুল ইসলাম সহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সূত্র জানায়, তারা গত কয়েকদিন যাবত এলাকা থেকে পালিয়ে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করে যাচ্ছিলো। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র্যাব’র একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে রবিবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার কাজির দেউড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের মোঃ নুর আলমের পুত্র মোঃ তাজুল ইসলাম (২৮), একই থানার পরাগলপুরের বশির আহম্মদের পুত্র মোঃ ইমন (২৭), নিজাম উদ্দিনের পুত্র মোঃ সাদেক হোসেন (২৯), আলা উদ্দিনের পুত্র মোঃ হাসান (২৩) এবং চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সেংগুয়া এলাকার মোঃ মনির হোসেনের পুত্র মোঃ মাহবুব (২৫)। সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসীরা পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন খীলমুরালী সহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে মানুষের আরামের ঘুম হারাম করে নানাবিধ: অঘটন ঘটনা ঘটিয়ে আসছিলো বলে এলাকাবাসীরা জানায়। তারা আওয়ামী লীগের যুব ও ছাত্র সংগঠন এর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো বলে সূত্র জানিয়েছে। র্যাব সূত্র জানায়, গত ১ আগস্ট রাতে স্থানীয় সন্ত্রাসী হক সাবের নের্তৃত্বে দেশীয় অস্ত্র সহ ১৮-২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল বিএসআরএম এর দু’টি কারখানায় হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এবং তাদের হামলায় কারখানায় দায়িত্ব রত: নিরাপত্তা কর্মী সহ ৪ জনকে গুরুতর আহত করে। এ ছাড়া তা অস্ত্রের মুখে নিরাপত্তা রক্ষীদের জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাপ লোহা, নিরাপত্তা বেষ্টনীর টিন ও নগদ অর্থ লুটে নেয়। এবং হত্যা করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মীকর্মীর নাম ধরে খোঁজ করে। এ ঘটনায় বিএসআরএম এর ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে ৩২ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত নামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে স্থানীয় জোরারগঞ্জ একটি থানায় মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) এআরএম মোজাফফর হোসেন। তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার কাজির দেউড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে প্রধান আসামি তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মোতাবেক একই এলাকা থেকেই ইমন, সাদেক হোসেন, হাসান ও মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











