বিশেষ প্রতিনিধিঃ এম, এ কাশেম, উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইয উপজেলার বাসিন্দা নুরুল আমিন চেয়ারম্যান সম্পর্কে অনেকে অনেক ভাবে লিখে যাচ্ছে! আর আমি লিখলাম দু'কলম। জ্ঞান-বিচার-বুদ্ধি থাকা নেতা-কর্মী সহ সবাই ভালো করে পড়ে বুজে নিয়ে শালিনতা বজায় রেখে যে কোনো ভাবে করতে পারেন তাতে কোনো বাধা নেই। তবে, অতি রঞ্জিত কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ। এবং সবাই কে মনে রাখতে হবে- এই লেখা নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর পক্ষিয় কোনো নেতা-কর্মীর নয়। এবং তার বিপক্ষিয় নেতা-কর্মীর ও নয়। এই লেখা কেবল-ই আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে লিখা মাত্র। সুতরাং, বুজ-জ্ঞানে রেখে মন্তব্য করবে সবাই। নুরুল আমিন চেয়ারম্যান প্রথম তো নিজ গ্রাম এলাকার একজন মেম্বার ছিলেন। কর্মগুনে তা থেকে উপরে সিড়ি বেয়ে উঠে গেলেন চেয়ারম্যান এর চেয়ারে। তার পর ধিরে ধিরে রাজনীতির দিকে পা বাড়ানো। প্রথম তো তিনি রাজনীতি করতেন না। তথাপি, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির প্রতি ছিলেন একটু দুর্বল। সেই কারণে জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতা তার সাথে যোগাযোগ ও রাখতেন যথারীতি। অন্যদিকে বিএনপি'র তরফ থেকে ও তাকে বিএনপি'র রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অফার দেয়া হয়। বিএনপি'র পক্ষ থেকে হঠাৎ একদিন তৎ সময়েসেনা বাহিনী থেকে অবসর নেয়া পর বিএনপি'র সম্মানিত চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী, দেশ মাতা বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে বিএনপি তে যোগদান করা সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল জহিরুল আমিন খান, প্রকাশ-জেড এ খান তার কর্মগুনে অতি অল্প সময়ের মধ্যে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা বলে দায়িত্ব পেয়ে যান। শুধু তাই নয় তাকে তার নিজের গ্রাম্য এলাকা জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসন/ উপজেলায় দলের চেয়ারপার্সনের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে মীরসরাই বিএনপি'র রাজনীতিতে সমন্বয় করার জন্য ও দায়িত্ব অর্পণ করেন। আর তার- ই সুবাদে জেড এ খান তার সাথে কয়েক জন নেতা-কর্মীদের হঠাৎ একদিন আকস্মিক ভাবে ওই নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। সেই সময় দলীয় পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে আমার উপস্থিতি ও ছিলো। সেই সময় জেড এ খান দলের চেয়ারপার্সনের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে তাকে বিএনপি'র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার অফার দিয়ে আসেন। এর মীরসরাই উপজেলার আরেকজন প্রফেসর কামাল উদ্দিন ও বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্ত ও মীরসরাই উপজেলা বিএনপি'র রাজনীতিতে তদারকি ভুমিকা রাখার দায়িত্ব প্রাপ্ত হিসেবে তিনি ও নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর সাথে যোগাযোগ করে সেই এক- ই ভাবে বিএনপি'র রাজনীতিতে আমন্ত্রণ জানান। তার পর একে একে মীরসরাই উপজেলা বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক-সভাপতি-আহবায়ক এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষকদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি (বর্তমানে মরহুম) এম, আলা উদ্দিন, মীরসরাই উপজেলা ছাত্রদল নেতা, চট্টগ্রাম উত্তর উ ছাত্রদলের সভাপতি, মীরসরাই উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক-সভাপতি মোঃ নুরুল আমিন সহ অপরাপর বিএনপি'র নের্তৃবৃন্দ তার সাথে যোগাযোগ করে এক-ই ভাবে বিএনপি'র রাজনীতিতে সু'স্বাগতম জানান/ জানাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ওই নের্তৃবৃন্দ/ব্যাক্তি বিশেষ এর বিএনপি'র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার অফার লুপে নিয়ে বিএনপি তে যোগদান করেন। এর পর নুরুল আমিন চেয়ারম্যান তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কর্মগুনে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তাক্ লাগিয়ে দেন, উপজেলা, জেলা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সকলকে। আর সে কারণে তিনি উপরে শরীরের সিঁড়ি আজের এই পর্যায়ে চলে আসেন। প্রথম তো: তিনি মীরসরাই উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক, তার পর উত্তর জেলা বিএনপি'র সহ সম্পাদক এবং তার ওপর তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি'র যুগ্ম আহবায়ক। এর বাইরে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন্। এবং শেষোতক তিনি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী হয়ে 'ধানের শীষ' প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে পড়েন। এর বাইরে দলের জন্য বিগত ১৭ বছর ওই নুরুল আমিন চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে রাস্তায় মিটিং-মিছিল সহ কি, কি ভুমিকা রেখেছিলেন বা রাখেননি তা দলের অগনিত সাধারণ নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষরা ও ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু, এতো কিছু যার মধ্যে নিহিত রয়েছে তার আজকের এই অবস্থার পড়ার মতো কথা নয়। তবে তাকে তার তোষামোদ কারী কতোগুলো নেতা নামধারী কালো তালিকা ভুক্ত ব্যাক্তি বিশেষ হেনো কর্মে করে বিগত ১১ মাসে লাখ লাখ -কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ারাই তাকে বিতর্কের জ্বালে আটকিয়ে দিয়েছে! নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর বিগত ১৭ বছরের রাজনীতিতে রাস্তা-ঘাট ও মাঠ-ময়দানে দলের জন্য কি ভুমিকা রেখেছিলেন তা প্রায় সবাই দেখেছেন। আর আমি দল করি এবং দলীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করি বলে আমি পর পর ৪ বার আওয়ামী গুন্ডাদের হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত হয়েছি, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি, আহরণের শিকার হয়েছি, লুটপাটের শিকার হয়েছি এবং নিত্য হুমকি ধামকিতে জীবন বাঁচানো ও দায় হয়ে পড়েছিলো। তথাপি, পালিয়ে না থেকে রাস্তা ঘাটে থেকেছি। আর সেই কারণে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর কি ভুমিকা এবং অন্যান্য নেতাদের কার কি ভুমিকা প্রায় সব কিছু দেখেছি। এমন অবস্থায় থাকার পর ও গত ১১ মাসে আমি না হয়ে বিএনপি'র পত্রিকার অন্য কোনো সাংবাদিক হলে ১১ লাখ কেনো আরো বেশি টাকার মালিক বন যেতো। কিন্তু, আমি ১১ শতো টাকার মালিক ও না! দরকার নেই ওই টাকার। মরলে কি ওই টাকা সাথে যাবে? আর যারা আজ লাখোপতি-কোটিপতি তারা বিগত ১৭ বছর কে, কোথায় ছিলো? নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর একটা দোষ- সে কেনো ওই সব ধান্দাবাজ নেতা-কর্মী নামধারীদের প্রটেকশন দিয়ে ধারে কাছে থাকার সুযোগ দিলো? অনেক বার তাকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ও বলেছিলাম কিন্তু কোনো গুরুত্ব ও দেযননি তিনি! আর সেই কারণে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান যতোটুকু-ই দোষ করেছে তার থেকে অনেক গুন বেশি দোষের শিকার হয়ে আজকে এই অবস্থার মধ্যে পড়তে বাধ্য হয়েছে ওই সব ধান্দাবাজ নেতা নামধারীদের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে। তার পর ও বলবো-যাহা হয়ে গিয়েছে তাহা কোনো ব্যপার নয়। আবার ঠিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ও উড়িয়ে দেয়া যায় না/যাবে ও না। তবে, ওই সব ধান্দাবাজ নেতা নামধারীদের প্রটেকশন দিয়ে ধারে কাছে স্থান দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নয় তো এখনকার চাইতে আরো কঠিন থেকে কঠিনতর: অবস্থার মধ্যে পড়তে হতে পারে।
সম্পাদকঃ এস এম মাহমুদুর রহমান
দৈনিক কর্ণফুলী সংবাদ