
অপসাংস্কৃতি রোধে শুদ্ধ ও সুস্থ সাংস্কৃতির ব্যপক চর্চা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে, চব্বিশ এর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা যে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছি সে বিপ্লবের পূর্ণ সফলতায় সুস্থ সাংস্কৃতির জাগরন তুলতে হবে সর্বত্র। চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি আয়োজিত জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপরোক্ত মন্তব্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। সোমবার (২৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫ টায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সিসিএ সভাপতি জনাব সেলিম জামানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। জনাব মুহাম্মদ গোলাম মুস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন আইআইই ইউসির ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলী আজাদী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. শামীম উদ্দীন খান, প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান, আইআইই ইউসির ট্রেজারার প্রফেসর ডঃ মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর এমদাদ হোসেন, দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের অন্যতম দায়িত্বশীল জনাব রফিকুল হায়দার, ও ড. চৌধুরী আবদুল হালিম। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ আরো বলেন বলেন, গত ১৬ বছর এদেশে ইসলাম ও ইসলামী সাংস্কৃতির উপর চরম নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার, তাদের পায়তারা ছিল ভিনদেশীয় অপ সাংস্কৃতিক চাপিয়ে আমাদের ঈমানী মূল্যবোধ ও নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়া কিন্তু সে স্বপ্ন তাদের পূর্ণ হয়নি। চব্বিশ এর জুলাই আন্দোলন ফ্যাসিস্টদের সমস্ত আয়োজন লন্ড ভন্ড করে দেয়। সাইদ মুগ্ধ সহ অসংখ্য ছাত্র জনতা তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে কায়েম করে মুক্তির বিপ্লব। বেজে ওঠে দেশের সর্বত্র বিজয়ের সানাই, শেষমেশ স্বৈরাচার পালিয়ে বাঁচে। বক্তারা বলেন, পতিতা ফ্যাসিবাদরা এখনো বসে নেই বিভিন্ন কৌশলে অর্জিত বিপ্লবকে নৎসাত করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতি মুহুর্ত, তাই আমাদের পথ চলতে হবে সতর্ক ও সাবধানতার সহিত। বক্তারা বলেন, বিপ্লবীদের মাধ্যমে মুক্তির যে সোপান জাতি অর্জন করেছে এর স্থায়ীত্ব ও সফলতায় সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার কোন বিকল্প নেই। আদর্শ সভ্য জাতি গঠনে স্ব-জাতীয় ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রচার-প্রসারে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ সময়ের দাবি। অতিথিবৃন্দ জুলাই বিপ্লব বর্ষপূর্তি আয়োজনে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্বপ বাস্তবায়নে আরো ব্যপক কর্মযজ্ঞ হাতে নিতে হবে, পরিকল্পনা ভিত্তিক জুলাই ইতিহাসকে বারবার জাতির সম্মুখে উপস্থাপন করার প্রয়াশ চালিয়ে যেতে হবে। নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা অসংখ্য দর্শকের উপভোগে থিয়েটারে পরিবেশিত হয় মুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে চট্টলা গানের দল, কর্ণফুলী নাট্য থিয়েটার, পাঞ্জেরী ও পারাবার শিল্পী গোষ্ঠী। এছাড়া আবৃত্তি পরিবেশনায় ছিল আদনান করিম, আরশাদ মাহনুদ ও মুহাম্মদ আব্দুল গফুর। অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ উল্লাহ, এস এম লুৎফুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











