নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অদ্য ২৪ মে ২০২৫ইং বিকাল ৩টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী সাংস্কৃতিক দল চট্টগ্রাম মহানগর উদ্যোগে নন্দনকানন নজরুল স্কয়ার চত্বরে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট আবুল হোসেন শিকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এর সঞ্চালনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, প্রধান বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি লায়ন ডক্টর সানাউল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ আফসার চৌধুরী, সাবেক ভিপি সাইফুল আলম, এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সনজয় আচায্য,যুগ্ম সম্পাদক জানে আলম, সহ সম্পাদক আবু বক্কর, চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির কার্য নির্বাহী সদস্য সাইদুল হক মজুমদার, আনোয়ারুল আজিম, আবুল কাশেম, সাংস্কৃতিক দলের নেতা ওমর আলী রনি, আব্দুস শুক্কুর, কবি অভিলাষ মাহমুদ, শ্রমিক নেতা মমতা সদ্দার, মোহাম্মদ দেলোয়ার, মোহাম্মদ ফারুক। এই সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্য বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের চেতনার বিশ্বাস। তিনি বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ না করলেও বাংলাদেশেকে নিয়ে তার যে লেখা, চিন্তা চেতনা তা অত্যন্ত প্রখর। তিনি আজ থেকে বহু বছর পূর্বে বাংলাদেশের ইতিহাস সংগ্রাম নিয়ে অনেক রচনা লিখে গেছেন। তিনি তার সাংস্কৃতিক কবিতা, কবি গানের মাধ্যমে সেই সময় যা উপস্থাপন করেছিলেন তা বর্তমানে বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তিনি ফেসিস্ট স্বৈরাশাসক নিয়ে তার কবিতায় যা প্রকাশ করেছিলেন তিনি আজ থেকে বহু বছর পূর্বে বাংলাদেশ নিয়ে উনি যেই সংস্কৃতির মাধ্যমে চিন্তা চেতনা প্রকাশ করেছিরেন তা বাংলাদেশের আর কেউ উপেক্ষা করে যেতে পারে নাই। আশা করি ভবিষ্যতেও পারবেনা। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তিনি আমাদেরকে যে বিপ্লবী চেতনায় উজ্জীবিত করেছেন এই বিপ্লবের মাধ্যমে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেও পৃথিবীতে লুকানোর জায়গা খুঁজে পায় না নিজের জন্মভূমি ছেড়ে রান্না করা ভাত ফেলে তিনি পালিয়ে গেছেন আর জাতীয় কবি। তিনি মুসলিম হওয়ার কারণে অমুসলিমদের কাছে ভারতবর্ষের কাছে তার কোন মূল্যায়ন হয় নাই। কিন্তু বাংলাদেশের তাকে ইতিহাসের স্থান করে দিয়েছেন। তিনি মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কোন ধর্ম জাতির বিভেদ নিয়ে কোন একক চিন্তা করেন নাই তিনি সর্বজনীন চিন্তা করেছেন। তার অর্জন ডিগ্রী বেশি না হলেও জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি এমন কোন জায়গায় বিচরণ করেন নাই, তিনি সৈনিক হতে চা-রুটি শ্রমিক পর্যন্ত তিনি সর্বদায় সর্বকাজে সম্মান করেছেন। তিনি হলেন আমাদের গর্ব, জাতির গৌরব। তার লেখা সারাবছর সংবাদপত্রে লিখে, রেডিও টেলিভিশনে প্রচার করে শেষ করা যাবে না। তার লেখার উপর আজকে ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয়, ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করছেন। তিনি ছিলেন মহাজ্ঞানী। নজরুল আল্লাহর একজন খাস বান্দা হিসাবে আল্লাহর প্রদত্ত রহমতের কারণে তিনি অসংখ্য জ্ঞানের অধিকারী হয়েছেন। তার মন মানসিকতা অন্যরকম ছিল তিনি কোন জাতি বিভে বুঝতেন না ধর্ম গোত্র হিসাব করতেন না তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী ছিলেন তিনি দগ্ধধারী না তিনি দক্ষতা অভিজ্ঞ যা আল্লাহ তরফ থেকে আর কারো কাছে এ জ্ঞান দিয়েছেন বলে মনে হয় না। পৃথিবীর বুকে একজন সেরা কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। প্রধান বক্তার বক্তব্যে এডভোকেট নাজিমুদ্দিন চৌধুরী বলেন, নজরুলের ইতিহাস তার লেখার মাধ্যমে জাতির সামনে তিনি আজীবন ভাস্কর্য হয়ে থাকবেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল আমাদের চেতনার দীপ্ত প্রতীক। তার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে রাষ্ট্রীয়ভাবে নজরুল স্কয়ার করা হয়েছে। এটিকে সংস্কার করে আধুনিকায়ন করে জাতির সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। তিনি অনেক জ্ঞানের অধিকারী। তার জ্ঞান চর্চার সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। যার কারনে তিনি জাতীয় কবি। বক্তারা বলেন, কবি নজরুল ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি যে কথা বলেছেন তা কখনো বিফলে যায়নি। তার প্রতিটি কলমের খোঁচায় আঁকনি অত্যন্ত মূল্যবান আজকে জাতি তার দৃষ্টান্ত দেখছেন।
সম্পাদকঃ এস এম মাহমুদুর রহমান
দৈনিক কর্ণফুলী সংবাদ