০৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী ফ্যাসিবাদীদের দোসর রেজা, ফরিদ গংদের আইনের আওতায় আনুন

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"source_ids":{},"source_ids_track":{},"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":2,"square_fit":1,"addons":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, দেশের সাংবাদিকতার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি। এটি কেবল একটি সংগঠন নয়, বরং বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার অগ্রগতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবটির নেতৃত্ব নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু ক্লাবটির কার্যক্রমকেই অচল করেনি, বরং চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের ঐক্য ও নৈতিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই সংকটের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর আধিপত্য, নেতৃত্বের সংকট এবং ক্লাবের ভেতরে-বাইরে জমে থাকা অসংখ্য বিতর্ক। সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, না হলে শুধু ক্লাবটির মর্যাদা নয়, চট্টগ্রামের সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বিভক্ত। একদিকে আছেন পূর্বের কমিটির সভাপতি, যিনি নিজেকে এখনও দায়িত্বপ্রাপ্ত দাবি

করছেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে চিঠি প্রদান করে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রেস ক্লাব পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই দ্বৈত নেতৃত্ব শুধু প্রেস ক্লাবের শৃঙ্খলাকেই ভেঙে দিচ্ছে না, বরং সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে। অনেক সাংবাদিক মনে করছেন, পূর্বের কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে থাকা গোষ্ঠী শুধু ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং ক্লাবের মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলছে। গত দেড় দশক ধরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই গোষ্ঠী ক্লাবকে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত করার পরিবর্তে এটি ব্যবহার করেছে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে। সিন্ডিকেটটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী ফ্যাসিবাদীদের দোসর রেজা-ফরিদ গং। যারা বিগত বৈষম্যবিরধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি হামলার ইন্দনদাতা এবং খুনের নির্দেশদাতা হিসাবে বেশ পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে বিভি- ন্ন সময়ে সাংবাদিকদের হয়রানি, মিথ্যা মামলা এবং ক্লাবের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করে এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তারা আরও সমালোচিত হয়েছেন। এই গোষ্ঠী ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। তারা ক্লাবের স্বচ্ছতা নষ্ট করে, যোগ্য সাংবাদিকদের উপেক্ষা করে এবং বিরোধীদের দমন করে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে। নেতৃত্বের সংকটের পেছনের কারণ: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বের সংকটের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ

করছে: ১. স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর আধিপত্য: প্রেস

ক্লাবের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ক্লাবের নেতৃত্বের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা ক্লাবকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ব্যবহার করছে। ২. গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অভাব: ক্লাবের নেতত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং নির্বাচনকে প্রভাবিত করে নিজের পছন্দের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৩. সাংবাদিকতার নৈতিকতার অবক্ষয়। প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরে সাংবাদিকতার মূল নীতিমালাকে উপেক্ষা করে স্বৈরশাসনের দোসরদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক সমাজে বিভাজন। বর্তমান সংকট শুধু প্রেস ক্লাবের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পুরো সাংবাদিক সমাজে বিভেদ তৈরি করেছে। পূর্বের কমিটির নেতৃত্ব দাবি করা গোষ্ঠীকে অনেকেই স্বৈরশাসনের দোসর হিসেবে দেখছেন। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড, যেখানে সাংবাদিকদের হয়রানি ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য রয়েছে, তা নিয়ে সাংবাদিক সমাজে তীর প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভিডিওতে প্রেস ক্লাবের এক সদস্যকে ছাত্রলীগের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে এবং আন্দোলনরত ছাত্র ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে উস্কানি দিতে শোনা যায়। এটি শুধু প্রেস ক্লাবের নয়, চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের নৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব কীভাবে? চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বের সংকট সমাধানে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এগুলো হলো:

১. নিরপেক্ষ তদন্ত: ক্লাবের নেতৃত্বের পেছনের বিতর্কিত বিষয়গুলো তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে।

২. গণতান্ত্রিক নির্বাচন: প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।

৩. আইনানুগ ব্যবস্থা: যারা ক্লাবের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. সাংবাদিকদের ঐক্য: সাংবাদিকদের বিভেদ দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গড়ে তুলতে হবে।

৫. স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা: প্রেস ক্লাবের কার্যক্রমে আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য প্রেস ক্লাবের পূর্ণগঠন জরু জরুরি: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার নৈতিকতার প্রতীক। কিন্তু বর্তমান সংকট ক্লাবটির সেই মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অতীতে ক্লাবটি সাংবাদিকদের জন্য একটি শক্তিশালী প-্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করত। কিন্তু এখন এটি বিভাজন, স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ড এবং বিতর্কিত নেতৃত্বের জন্য সমালোচিত হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে ক্লাবের পুনর্গঠন অত্যন্ত জরুরি। পরিশেষে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বের দ্বনছ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়, এটি সাংবাদিকতার নৈতিক সংকটকেও চিহ্নিত করে। এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না হলে সাংবাদিক সমাজে বিভেদ আরও বাড়বে এবং ক্লাবের মর্যাদা আরও ক্ষুন্ন হবে। তাই নেতৃত্বের প্রশ্ন সমাধানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্লাবের পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে। শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্যও এটি অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নিরপেক্ষ, সৎ এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই হবে সময়ের সেরা সিদ্ধান্ত। উল্লেখ যে ডিসি অফিসের দালাল, চ্যানেল আই ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব বিক্রি করে আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর দোহাই দিয়ে ফরিদ গং চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক, চোরাকারবারি, আনোয়ারা গহিরা ইয়াবা সিন্ডিকেট এর প্রধান নিয়ন্ত্রণক, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, ভেজাল ঘি ব্যবসায়ী ( কোহিনুর ঘি), সাংবাদিক সমাজের কলঙ্ক, ঘি ফরিদ ও ফরিদ গং কে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন, সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী ফ্যাসিবাদীদের দোসর রেজা, ফরিদ গংদের আইনের আওতায় আনুন

সময় : ১১:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, দেশের সাংবাদিকতার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি। এটি কেবল একটি সংগঠন নয়, বরং বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার অগ্রগতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবটির নেতৃত্ব নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু ক্লাবটির কার্যক্রমকেই অচল করেনি, বরং চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের ঐক্য ও নৈতিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই সংকটের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর আধিপত্য, নেতৃত্বের সংকট এবং ক্লাবের ভেতরে-বাইরে জমে থাকা অসংখ্য বিতর্ক। সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, না হলে শুধু ক্লাবটির মর্যাদা নয়, চট্টগ্রামের সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বিভক্ত। একদিকে আছেন পূর্বের কমিটির সভাপতি, যিনি নিজেকে এখনও দায়িত্বপ্রাপ্ত দাবি

করছেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে চিঠি প্রদান করে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রেস ক্লাব পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই দ্বৈত নেতৃত্ব শুধু প্রেস ক্লাবের শৃঙ্খলাকেই ভেঙে দিচ্ছে না, বরং সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে। অনেক সাংবাদিক মনে করছেন, পূর্বের কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে থাকা গোষ্ঠী শুধু ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং ক্লাবের মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলছে। গত দেড় দশক ধরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই গোষ্ঠী ক্লাবকে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত করার পরিবর্তে এটি ব্যবহার করেছে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে। সিন্ডিকেটটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী ফ্যাসিবাদীদের দোসর রেজা-ফরিদ গং। যারা বিগত বৈষম্যবিরধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি হামলার ইন্দনদাতা এবং খুনের নির্দেশদাতা হিসাবে বেশ পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে বিভি- ন্ন সময়ে সাংবাদিকদের হয়রানি, মিথ্যা মামলা এবং ক্লাবের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করে এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তারা আরও সমালোচিত হয়েছেন। এই গোষ্ঠী ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। তারা ক্লাবের স্বচ্ছতা নষ্ট করে, যোগ্য সাংবাদিকদের উপেক্ষা করে এবং বিরোধীদের দমন করে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে। নেতৃত্বের সংকটের পেছনের কারণ: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বের সংকটের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ

করছে: ১. স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর আধিপত্য: প্রেস

ক্লাবের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ক্লাবের নেতৃত্বের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা ক্লাবকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ব্যবহার করছে। ২. গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অভাব: ক্লাবের নেতত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং নির্বাচনকে প্রভাবিত করে নিজের পছন্দের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৩. সাংবাদিকতার নৈতিকতার অবক্ষয়। প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরে সাংবাদিকতার মূল নীতিমালাকে উপেক্ষা করে স্বৈরশাসনের দোসরদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক সমাজে বিভাজন। বর্তমান সংকট শুধু প্রেস ক্লাবের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পুরো সাংবাদিক সমাজে বিভেদ তৈরি করেছে। পূর্বের কমিটির নেতৃত্ব দাবি করা গোষ্ঠীকে অনেকেই স্বৈরশাসনের দোসর হিসেবে দেখছেন। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড, যেখানে সাংবাদিকদের হয়রানি ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য রয়েছে, তা নিয়ে সাংবাদিক সমাজে তীর প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভিডিওতে প্রেস ক্লাবের এক সদস্যকে ছাত্রলীগের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে এবং আন্দোলনরত ছাত্র ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে উস্কানি দিতে শোনা যায়। এটি শুধু প্রেস ক্লাবের নয়, চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের নৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব কীভাবে? চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বের সংকট সমাধানে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এগুলো হলো:

১. নিরপেক্ষ তদন্ত: ক্লাবের নেতৃত্বের পেছনের বিতর্কিত বিষয়গুলো তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে।

২. গণতান্ত্রিক নির্বাচন: প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।

৩. আইনানুগ ব্যবস্থা: যারা ক্লাবের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. সাংবাদিকদের ঐক্য: সাংবাদিকদের বিভেদ দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গড়ে তুলতে হবে।

৫. স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা: প্রেস ক্লাবের কার্যক্রমে আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য প্রেস ক্লাবের পূর্ণগঠন জরু জরুরি: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার নৈতিকতার প্রতীক। কিন্তু বর্তমান সংকট ক্লাবটির সেই মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অতীতে ক্লাবটি সাংবাদিকদের জন্য একটি শক্তিশালী প-্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করত। কিন্তু এখন এটি বিভাজন, স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ড এবং বিতর্কিত নেতৃত্বের জন্য সমালোচিত হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে ক্লাবের পুনর্গঠন অত্যন্ত জরুরি। পরিশেষে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বের দ্বনছ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়, এটি সাংবাদিকতার নৈতিক সংকটকেও চিহ্নিত করে। এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না হলে সাংবাদিক সমাজে বিভেদ আরও বাড়বে এবং ক্লাবের মর্যাদা আরও ক্ষুন্ন হবে। তাই নেতৃত্বের প্রশ্ন সমাধানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্লাবের পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে। শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্যও এটি অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নিরপেক্ষ, সৎ এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই হবে সময়ের সেরা সিদ্ধান্ত। উল্লেখ যে ডিসি অফিসের দালাল, চ্যানেল আই ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব বিক্রি করে আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর দোহাই দিয়ে ফরিদ গং চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক, চোরাকারবারি, আনোয়ারা গহিরা ইয়াবা সিন্ডিকেট এর প্রধান নিয়ন্ত্রণক, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, ভেজাল ঘি ব্যবসায়ী ( কোহিনুর ঘি), সাংবাদিক সমাজের কলঙ্ক, ঘি ফরিদ ও ফরিদ গং কে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন, সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ।