
চট্টগ্রামের বৈষম্য বিরোধী সম্পাদক-সম্পাদকদের এক সমাবেশ ২৫ শে নভেম্বর (২০২৪) সোমবার বিকেলে কাজীর দেউড়ীস্থ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টবাণী সম্পাদক নুরুল কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ব প্রেস কাউন্সিল ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এর সাবেক সদস্য, চট্টগ্রাম সাংবাদিক সমাজের অভিভাবক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ এডিটর ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদ এর সভাপতি, দৈনিক আমাদের বাংলা ও দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম এর সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব এর সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া পরিচালক, দৈনিক আমাদের বাংলা বিশেষ প্রতিনিধি মুনীর চৌধুরী’র পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মোঃ আজম খান, এম আর তাওহীদ, মোঃ নজির উদ্দিন চৌধুরী, মোঃ দিদারুল বেলাল, মোঃ হাসানুল আলম, মোঃ সাকিব, মোঃ তৈয়ব চৌধুরী, মোঃ আমিনুল হক, কাউছার সোহেল, মোঃ ওসমান গণি, ঝুমা আকতার, শামসুল ইসলাম রানা, অরুন নাথ, মোঃ রাশেদুল আজিজ, এম ডি এইচ রাজু, জহিরুল ইসলাম বাবর, সাইফুর রহমান সাইফু, মোঃ মাসুদ, সৈয়দ আবদুল্লা মজুমদার, মোঃ রাকিব, আমিনুল হক রিপনসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকবৃন্দ। সভায় বলা হয়, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের প্রীতস্থান, মিলন কেন্দ্র। এই ক্লাব নিয়ে দুরাচারীদের ষড়যন্ত্র এখনো বন্ধ হয়নি। ফ্যাসিবাদের দোসর মুক্ত করার কথা বলা হলেও কতিপয় ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের ধ্বজাধারী চরম ফ্যাসিবাদের দোসর সংবাদ কর্মীর কাঁধে হাত রেখে সুবিধা ভোগ করছে। সভায় বক্তাগণ বলেন, ৫ই আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের পর ৬ই আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাব সদস্য, সম্পাদক-সাংবাদিক-ছাত্র জনতার বিশাল সমাবেশে প্রবীণ সাংবাদিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী কমিটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ঘোষণা করেন সেই কমিটি জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ফসল। এই কমিটি সম্পর্কে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাও অবহিত ছিলেন। এই কমিটিকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে জেলা প্রশাসক নিজেই আদেশ দিয়ে নিজেকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের অন্তর্বর্তী কমিটি ঘোষণা কনে। সাংবাদিক-জনতার দাবীর প্রেক্ষিতে ৬ই আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী কমিটি বিলুপ্ত না করে তিনি কিভাবে কোন আইনে নিজেকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠনের আদেশ দিলেন? গত ২৭ শে অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আগের কমিটি জেলা প্রশাসক এক আদেশ বলে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। স্বাভাবিকভাবেই অন্তর্বর্তী কমিটির যাঁরা যোগ্য তারা সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে প্রেসক্লাব পরিচালনার দায়িত্ব নেয়াটাই প্রচলিত নিয়ম। জেলা প্রশাসক অন্তর্বর্তী কমিটিকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ না দিয়ে ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে অসম্মান করলেন এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এই কমিটি সম্পর্কে অবহিত হবার বিষয়টি জেলা প্রশাসক জানা সত্ত্বেও তাঁকে বিষয়টি না জানিয়ে অবমাননা করলেন। এই অবমাননা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার অবমাননা ও জেলা প্রশাসকের অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সভায় বলা হয়, এখনো সময় আছে, জেলা প্রশাসক তাঁর নেতৃত্বে গঠিত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তী কমিটির আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করে ৬ই আগস্টের ঘোষিত অন্তর্বর্তী কমিটির আহ্বায়কের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে প্রেসক্লাব সমস্যার ইতিবাচক সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ব প্রেস কাউন্সলস্ নির্বাহী পরিষদ ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক সদস্য, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদ্যনিষ্ক্রিয় অন্তর্বর্তী কমিটির আহ্বায়ক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নিয়ে কোন কথা বলতে আমি এখন বিব্রত ও বিরক্ত বোধ করি। এই প্রেসক্লাব নিয়ে এখন অনেকেই অনেক কথা বলে- এসব কথা শুনতে আর ভাল লাগে না। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবই উপ মহাদেশের একমাত্র প্রেসক্লাব যে ক্লাব সাংবাদিকদের অর্থে কেনা ভূমির উপর স্থাপিত। স্বাধীনতার পূর্বের সদস্যদের মধ্যে আজাদী সম্পাদক এম.এ. মালেক ও এরশাদ মজুমদার আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছেন। স্বাধীনতার পর পর আমরা যারা সদস্য হয়েছিলাম তাদের মধ্যেও বেশী সদস্য বেঁচে নেই। এই ক্লাবের চলমান উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিন আহমদ, শেখ হাসিনার সরকার, আবদুল্লাহ আল নোমান, ইঞ্জিনিয়ার এল এ সিদ্দিকী, ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, চট্টগ্রাম সাবেক দুই মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী সহ অনেকেই অবদান রেখেছেন। এই ক্লাব কোন দলের বা সরকারের নয়- সকল দেশপ্রেমিক মানুষের। কাদেরী শওকত দুঃখ করে বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কিছু সাংবাদিকদের আত্মম্ভরিতা, বিলাসিতা, সর্বনাশা দম্ভ, অহমিকা, অনুবর্তী-সহকর্মী সাংবাদিকদের অবজ্ঞা, উপেক্ষা, অবহেলা, বঞ্চনা সর্বোপরি মহান সাংবাদিকতার পেশাগত অসদাচরণের কারণে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান। সাংবাদিকরাই এই প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান করবেন। কোন সরকারী কর্মকর্তা বা রাষ্ট্রীয় যন্ত্র সমাধান করতে পারবে না। যদি সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে সাময়িকভাবে দমন করা হয় শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে। সদ্ভাব, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনে সাংবাদিকরাই সমস্যা সমাধান করতে পারবেন- ইনশাল্লাহ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











